
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘সাপোর্টিং এ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬৯৮ জন কর্মী আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তারা ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও)-এর কারিগরি সহায়তায় ৩০ লাখ ইউরো ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির দ্বিতীয় বছরের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বোয়েসেল।
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬৯৮ জন কর্মী আটটি প্রধান ট্রেডে দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাদের ইতালিতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে নিয়োগ-সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে, প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য ইতালিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’-এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, টেকসই ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত মোবাইল-উপযোগী করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য শুধু ইতালিই নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এর মাধ্যমে বৈধ পথে দক্ষ কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
সভায় আগামী কার্যক্রম হিসেবে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ১০ দিনের প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) এবং আন্তর্জাতিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনে একটি ‘এমপ্লয়ার-ম্যাচিং পাইপলাইন’ তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পর্যালোচনা সভায় আইএলওর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লোটে কেইসার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।