অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিচারকদের আবাসনে ৭২ ভবনের মাস্টারপ্ল্যান

বিচারকদের আবাসন সংকট শুধু থাকার জায়গার সমস্যা নয়, এটি তাদের নিরাপত্তা ও বিচারিক স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ সংকট নিরসনে দেশের ৬৪ জেলা ও ৮ মহানগরে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক ও সমন্বিত আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রকল্পের স্থান নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা ইউনিট।

মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজরা।

তাদের মতে, ভাড়া বাসায় বসবাসের কারণে বিচারকদের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি তদবির-তদারকির সুযোগ এবং চুরি-ডাকাতির আশঙ্কাও থাকে।

তাই বিচারকদের জন্য সমন্বিত সরকারি আবাসন ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

আইন মন্ত্রণালয় মনে করছে, স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনার কারণে ভাড়া বাসায় বসবাস বিচারক ও তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।

২ সেপ্টেম্বর পাঠানো ‘৬৪ জেলা এবং ৮টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য ৭২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচন’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন বিচারক কর্মরত রয়েছেন। কয়েকটি জেলা ছাড়া অধিকাংশ জেলাতেই বিচারকদের জন্য পর্যাপ্ত বা সমন্বিত সরকারি আবাসন ব্যবস্থা নেই। ফলে অধিকাংশ বিচারককে ভাড়া বাসায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অনেক জেলা জজশিপের আওতায় আবাসন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে স্থানভেদে ১০ থেকে ১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে বর্তমান সংকট নিরসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বর্ধিত চাহিদাও পূরণ করা যাবে। একই ভবনে সিসিটিভি, নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

‘৬৪ জেলা এবং ৮টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে জেলা ও দায়রা জজদের তার আওতাধীন আদালত প্রাঙ্গণে বা পুরাতন কোর্ট/মুন্সেফ কোর্ট প্রাঙ্গণে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে তার বর্ণনা ও স্থানিক নকশা প্রেরণ এবং জায়গা না থাকলে জেলা জজ আদালত ভবনের এক কিলোমিটার পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করার মতো জায়গার ধারণা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু বলেন, ‘আবাসন মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। বিচারকদের কাজ অত্যন্ত কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত তাদের রায়ের কাজ করতে হয়। ভাড়া বাসায় থাকাটা মোটেও নিরাপদ নয়। এতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়, তদবির-তদারকের সুযোগ থাকে এবং শত্রুতা বা চুরির আশঙ্কাও বাড়ে। এমনকি বাড়িওয়ালার মামলা-মোকদ্দমা থাকলেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব বিচারক যদি এক জায়গায় সরকারি কোয়ার্টারে একসঙ্গে থাকেন, তাহলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মতবিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। গাড়ি বা যাতায়াতের সমস্যা কমবে। আদালতের কাছাকাছি হলে অনেকেই হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আমরাও আবাসনের নিশ্চয়তার দাবি জানিয়ে এসেছিলাম।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

1

পীরগঞ্জ পাইলট স্কুলে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তেও নেই

2

‘লিখিত দলিল না থাকলে দেশ স্বাধীনের কৃতিত্বও নিত জামায়াত’ : উ

3

তেঁতুলিয়ায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিএনপি নেত্রীকে

4

'ঘুর ঘুর পার্টি'র দৌরাত্ম্যে প্রশ্নের মুখে সাংবাদিকতার বিশ্ব

5

ফুলবাড়ীতে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা

6

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে প্রথম প্রহরে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্

7

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

8

সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা কেন রিডিংয়ে পিছিয়ে?

9

সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, অতিষ্

10

গোপন বিয়ে: ইসলামে কেন নিরুৎসাহিত?

11

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ

12

ফুলবাড়ীতে অটোরিকশা চালক হত্যা, ছিনতাইকৃত যানসহ আটক ১

13

কেন মেয়াদ শেষের আগেই পদ ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

14

খালেদা জিয়াকে ফুড পয়জনিংয়ের অভিযোগ, তদন্ত দাবি রিজভীর

15

নারী ও শিশুর সুরক্ষায় অঙ্গীকার নয়, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুর

16

হরিপুরে প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা, যুবক গ্রেফতার

17

ফুলবাড়ীতে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের ব্যস্ত দিন, স্কুল পরিদর্শন ও আ

18

হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচার শেষ করতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত

19

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

20