অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুবাইয়ের সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চাইবে দুদক

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ কেনার অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে তথ্য চাইতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতের নাম রয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও নথি আদান-প্রদান করা যায়।

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের কেউ কেউ দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ কেনার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্ত দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে চিঠি দিয়েছে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

তদন্তে দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি বিশেষ দল কাজ করছে। দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান।

তদন্তাধীন ৭৩ জনের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এইচবিএম ইকবাল ও চৌধুরী নাফিস সরাফাত ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তাদের পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।

দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদের বিষয়ে ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনার পর এ তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ কেনার অভিযোগ তদন্তের জন্য দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৫৯ বাংলাদেশির দুবাইয়ে ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ২০২২ সালের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলা হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে ছিল। এছাড়া বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও পাওয়া যায়। চার বা পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে আসে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফাইনাল নয়, মালয়েশিয়ার ভাবনায় আপাতত বাংলাদেশ

1

কোহাটে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত ২৭

2

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে: শফিকুর রহম

3

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

4

সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপত

5

ফুলবাড়ীতে নকল কীটনাশক বিক্রি, জরিমানা ৪০ হাজার টাকা

6

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী মির্জা ফয়সল আমীন

7

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের খসড়ায় মন্ত্রিসভ

8

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নতুন করে ভাবার আহ্বা

9

সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে: চিফ হুইপ

10

পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামহীন প্রেসক্রিপশন, ওষুধ বিতরণ

11

জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির

12

পঞ্চগড়ে ৪ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণে বাধার অভিযোগ আমলে নেয়নি প্রে

13

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

14

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

15

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য স

16

ফুলবাড়ীতে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা

17

ইসরায়েলে সরকার গঠনে আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন

18

গণভোটে অনড় শফিকুর, আপসের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

19

বিনিয়োগ, জ্বালানি ও বাণিজ্যে তিন নতুন নীতিমালার অনুমোদন

20