চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি গলির কয়েকটি বসতবাড়ির দেয়ালে ‘জয় হাসিনা’, ‘জয় বাংলা’সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লিখেছে কয়েক শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানাজানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্লোগানগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি গলির কয়েকটি বসতবাড়ির দেয়ালে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এসব স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেয়াল থেকে লেখাগুলো মুছে ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিনের কোনো এক সময়ে বিদ্যালয়ের সামনের গলির কয়েকটি বসতবাড়ির দেয়ালে কালো রঙের স্প্রে দিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান লেখা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে।
দেয়ালে লেখা স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’, ‘উই আর মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’। এসব স্লোগান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পাশাপাশি দেয়ালে স্লোগান লেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, স্কুলের ছাত্রীরা দিনের বেলায় দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত নয়।
এদিকে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত দেয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলার উদ্যোগ নেয়।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষার্থীরাই এসব স্লোগান লিখেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেগুলো মুছে ফেলেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রীদের শনাক্ত করে তাদের অভিভাবকদের ডেকে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারও প্ররোচনা বা নির্দেশনায় ছাত্রীরা এসব স্লোগান লিখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন