সৌদি আরবভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ক্যাম্পটির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।
সকাল থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে ক্যাম্প প্রাঙ্গণে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ, নারী ও শিশুদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের। বগুড়া মূক-বধির বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বিনামূল্যে বিশেষায়িত চক্ষুসেবা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনকল্যাণমূলক এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা জানিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, ‘প্রতি তিন বা ছয় মাস পরপর এই ধরনের মানবিক আয়োজন আগে থেকেই চালু ছিল। ইনশাআল্লাহ, ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আমরা এই ধারা নিয়মিত বজায় রাখার চেষ্টা করব।’
আয়োজনের প্রশংসা করে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘আল-বাশার ফাউন্ডেশন ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সুবিধাবঞ্চিত অন্ধ ও চক্ষুরোগীদের সেবা দিতে এত বড় আয়োজন বগুড়াবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তি।’
ক্যাম্পের চিকিৎসাসেবার লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের পরিচালক ডা. আহমেদ তাহের হামিদ আলী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অন্তত ৫ হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া। এর চেয়ে বেশি রোগী এলেও আমরা চিকিৎসাসেবা দেব। কেউ খালি হাতে ফিরবে না। একইসঙ্গে ৫০০ থেকে ১ হাজার রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
কর্মসূচির সার্বিক বিষয় তুলে ধরে আয়োজক দলের নেতা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাংবাদিক হাফিজ আল আসাদ সাইদ খান বলেন, ‘প্রচণ্ড গরম ও রোদ উপেক্ষা করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখানে সেবা নিতে এসেছেন। যাদের ওষুধ ও চশমা প্রয়োজন ছিল, তাদের তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক অঙ্গীকার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তা রক্ষা করে আসছে।’
সংগঠনটির অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবামূলক উদ্যোগ তুলে ধরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বারডেম শাখার সভাপতি ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে। এর আগেও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সেবা এবং অ্যাজমা সেন্টার পরিচালনা করা হয়েছে। আজ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।’
চিকিৎসাসেবা শেষে অনুভূতি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসকেরা দারুণভাবে চোখ পরীক্ষা করেছেন এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি চশমা দিয়েছেন। এক টাকাও খরচ হয়নি।’
সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সারিয়াকান্দি থেকে আসা রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আগে চোখে ঝাপসা দেখতাম, স্পষ্ট লেখা পড়তে পারতাম না। চশমা পাওয়ার পর এখন ভালো দেখতে পাচ্ছি। আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য এটি অনেক বড় উপহার।’
আরেক সেবাগ্রহীতা ইনসান আলী বলেন, ‘চোখ পরীক্ষা করে বিনামূল্যে পাওয়ারের চশমা পেয়েছি। এখানে পরিবেশ খুব সুন্দর এবং কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।’
আয়োজকরা জানান, প্রথম দিনের প্রাথমিক বাছাই শেষে নির্বাচিত ছানি রোগীদের আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হবে।
বগুড়া অঞ্চলের এ বৃহৎ চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনায় জেলা টিমের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, অধ্যাপক ডা. আজফারুল হাবিব রোজ, ডা. মো. ইউনুস আলী ও সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। ঢাকায় অবস্থানরত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের দিক-নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী মো. এ কে এম জহিরুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. সুমন রহমান এবং এম-ট্যাবের কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মিজানুর রহমান।
মন্তব্য করুন